রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সবুজে মোড়া বরজ, তবুও হতাশা কাটছে না পান চাষিদের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৮:৩৪ পিএম

সবুজে মোড়া বরজ, তবুও হতাশা কাটছে না পান চাষিদের

সবুজে মোড়া পানের বরজ থাকা সত্ত্বেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের পান চাষিদের হতাশা কাটছে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি ও সার-কীটনাশকের দাম বহন করতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

হাকিমপুরের হিলি ও মাধবপাড়া এলাকার মাঠজুড়ে এখন সবুজ পানবরজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভালো ফলন হলেও বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

লোকসান ও ব্যয় বৃদ্ধি: হাকিমপুর উপজেলার মাধবপাড়া গ্রামের পানচাষি মাইদুল শেখ বলেন, "এখন পান বিক্রি করে কোনো লাভ হচ্ছে না, বরং লোকসান দিতে হচ্ছে।

সার, কীটনাশক, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি, সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে যে পান ৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেটি মাত্র ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে পান বিক্রি করে ঘরভাড়া ও বরজের খরচও ওঠে না।"চাষিরা বলছেন, বরজ সামলাতে গিয়েই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চাষিরা লাভ না করায় বরজে প্রতিদিন কাজ করা শ্রমিকরাও নিয়মিত মজুরি পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

কৃষি বিভাগের আশ্বাস: পান চাষিদের এমন সংকট প্রসঙ্গে কথা বলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম। তিনি জানান, পোকা-মাকড় দমনসহ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা কৃষি বিভাগ নিয়মিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, দামের বিষয়টি চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। তবে কৃষক যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তাদের পাশে রয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৪০ মেট্রিক টন।চাষিদের আশা, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিলে এ অঞ্চলের হাজারো পরিবার আবারও লাভের মুখ দেখবে। অন্যথায় লোকসান গুণে ধীরে ধীরে অনেকেই পানের আবাদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।