রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পান চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম

পান চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক পান চাষ। তুলনামূলক কম জমিতে এবং সীমিত খরচে দীর্ঘমেয়াদি এই ফসল থেকে ভালো মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে পান চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। উপজেলার খানপুর, ঢাকুরিয়া, মশ্বিমনগরসহ অন্তত ৫০টি গ্রামে এখন সারি সারি পানের বরজ চোখে পড়ছে।

লাভজনক ফসল মিষ্টি ও সাঁচি পান: মনিরামপুরে মূলত দুই ধরনের পান চাষ হয়— মিষ্টি পান ও সাঁচি পান। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই মিষ্টি পান, যা বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং লাভজনক।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে এক পোন (৮০টি) পান ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার পাইকারি বাজারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এখান থেকে পান সংগ্রহ করছেন।

চাষিদের সমস্যা ও অভিযোগ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পান চাষ হলেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া না লাগায় কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা।রোগবালাই পানের পাতায় পচন ও শিকড়ে মড়ক দেখা দিলে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে পারেন না চাষিরা।পরামর্শের অভাব মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ পান না বলে অভিযোগ অনেকের।উৎপাদন খরচ বরজ তৈরির শুরুতে বড় অঙ্কের মূলধন প্রয়োজন হয়, যা অনেক ক্ষুদ্র চাষির জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

কৃষি বিভাগের ভাষ্য মনিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বিথী বলেন, “মনিরামপুরের মাটি ও জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটি একটি সম্ভাবনাময় ফসল। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

উন্নয়নের চালিকাশক্তি মনিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের কৃষি শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নহার রঞ্জন হালদার মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত রোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে পান চাষ হতে পারে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।সঠিক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই পান বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।