রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আগাম ফুলকপি চাষে কৃষকদের দ্বিগুণ লাভের আশা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম

আগাম ফুলকপি চাষে কৃষকদের দ্বিগুণ লাভের আশা

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় আগাম জাতের ফুলকপি চাষে স্থানীয় কৃষকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। বেশি লাভের আশায় এই রবি মৌসুমে অনেকেই আগাম ফুলকপি চাষে নেমেছেন এবং এরই মধ্যে তারা জমিতে চারা রোপণের কাজ শেষ করেছেন।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কপি বাজারজাতকরণ শুরু হবে বলে কৃষকরা আশা করছেন।স্থানীয় চাষিরা জানান, আগাম জাতের ফুলকপি চাষের একটি বড় সুবিধা হলো এতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম হয়।

ফলনও বেশ ভালো হয়, ফলে লাভের সম্ভাবনাও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। এই কারণে প্রতি বছরই কৃষকরা প্রথাগত সময়ের চেয়ে আগে কপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে মোট ১ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন শস্য চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ফুলকপি একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে। উপজেলা কৃষি অফিস আগাম ফুলকপি চাষিদের রোগবালাই দমন এবং ফসলের সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করছে।সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফুলকপি চাষিরা এখন দ্রুত বাজারজাতের লক্ষ্যে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউবা আগাছা পরিষ্করণ বা নিড়ানি দিতে ব্যস্ত।

অনেক ক্ষেতের ফুলকপি ইতোমধ্যেই বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাজারে কপির ভালো দাম রয়েছে। যদি তারা দ্রুত ফসলটি বাজারে তুলতে পারেন, তবে খরচের দ্বিগুণ লাভ সম্ভব হবে। এই দ্বিগুণ লাভের আশাতেই তারা দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।উলিপুর উপজেলার দক্ষিণ দলদলিয়া পাতিলাপুর মিয়া পাড়া এলাকার চাষি কামরুজ্জামান জানান, তিনি প্রায় ২২ শতক জমিতে তিন হাজার ফুলকপি চারা লাগিয়েছেন এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

এই চাষে তার খরচ হয়েছে আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা, আর তিনি আয় প্রত্যাশা করছেন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া সকওয়াত, কুদ্দুস আলী, ফিদ্দুস আলী, মান্না, তারাজুলসহ আরও অনেক চাষি মন্তব্য করেছেন, এবারের আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম কপির ফলন চমৎকার হয়েছে। বাজারদর ভালো থাকায় তারা এবার বাম্পার লাভের আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন এই প্রসঙ্গে বলেছেন, আগাম জাতের কপিতে সাধারণত পোকামাকড় বা রোগের আক্রমণ কম থাকায় ফলন ভালো হয় এবং কৃষকরা স্বাভাবিকভাবেই লাভবান হন। তিনি আরও যোগ করেন, এবার বাজারদরও অনুকূলে থাকায় চাষিদের সন্তুষ্টির মাত্রা আরও বাড়বে।