শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লালমনিরহাটে পাটের দাম বাড়লেও ফলন কমায় চিন্তায় কৃষক

কৃষি ডেস্ক

জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

লালমনিরহাটে পাটের দাম বাড়লেও ফলন কমায় চিন্তায় কৃষক

ছবি : সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের বন্যাকবলিত অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও মৌসুমের নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। তবে ভালো বাজারদর মিললেও অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় ফলন কমে গেছে। ফলে বছরের খোরাকি জোগাড়ের চিন্তা নিয়ে চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।ফলন বিপর্যয়ের কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এ বছর অধিকাংশ পাটগাছের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত কমে গেছে। সাধারণত পাটগাছের উচ্চতা সাত থেকে তেরো ফুট হলেও এবার তা তিন থেকে আট ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে চল্লিশ থেকে ষাট কেজি পর্যন্ত আঁশ কম উৎপাদিত হয়েছে। জেলার সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাটে এখন নতুন পাট কেনাবেচা চলছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পাট তিন হাজার চারশ থেকে তিন হাজার আটশ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা চার হাজার থেকে চার হাজার চারশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কিছুটা বেশি থাকায় সাময়িক স্বস্তি মিললেও ফলন কম হওয়ায় সেই লাভ টিকছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন পাটের সরবরাহ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ আঁশ না পাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে প্রায় ষোল হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ছয় মণ পাট বিক্রি করে চব্বিশ হাজার টাকা পাওয়া গেলেও উৎপাদন ব্যয় বাদ দিলে পরিশ্রমের তুলনায় লাভ থাকে খুবই সামান্য। অপর কৃষক কাশেম মিয়া বলেন, প্রতি মণ পাট উৎপাদনে আড়াই হাজার টাকা খরচ হলেও সার্বিক কম ফলনের কারণে লাভের অঙ্ক আশানুরূপ নয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় চার হাজার ৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় সাতশ ত্রিশ হেক্টর বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে উনপঞ্চাশ হাজার পাঁচশ ঊনচল্লিশ মেট্রিক টন। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ জানান, বীজ বপন ও চারা বৃদ্ধির সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাটগাছের স্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।