মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬,

কাউনিয়ায় তেজপাতা চাষ কৃষকদের ভাগ্য বদল

কৃষি ডেস্ক

আগস্ট ৩১, ২০২৬, ১০:০১ পিএম

কাউনিয়ায় তেজপাতা চাষ কৃষকদের ভাগ্য বদল

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিভৃত গ্রাম বাজে মজকুর। এই গ্রামের দৃশ্য এখন অন্য রকম, কারণ রাস্তার ধার, পুকুরপাড় ও বাড়ির উঠানে ছড়িয়ে আছে সারি সারি তেজপাতার গাছ। একটি মাত্র উদ্যোগ পুরো এলাকার কৃষকদের অর্থনৈতিক চালচিত্র পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।

এই নীরব বিপ্লবের রূপকার স্থানীয় কৃষক গুলজার হোসেন। চরম অভাবের মধ্যে বড় হওয়া গুলজার হোসেন আট বছর বয়সে বাবাকে হারান। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বইপত্র ছেড়ে অন্যের বাড়িতে কাজের সন্ধানে নামতে হয় তাকে, আর ২২ বছর বয়সে মাকে হারানোর পর সংসারের পুরো দায়িত্ব তার কাঁধে এসে পড়ে। পরে আবু তাহের নামের এক প্রতিবেশীর পরামর্শে মাত্র ১৪টি চারা দিয়ে তেজপাতার বাগান শুরু করেন তিনি। 

এখন তার প্রায় দুই একর জমিতে মসলার চাষ রয়েছে, যেখান থেকে বছরে প্রায় চার লাখ টাকা আয় হয়। এই আয়ের টাকায় যৌতুক ছাড়া দুই মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আট লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছেন তিনি। নিজের এই বিশাল সাফল্যের পর এলাকার অন্য কৃষকদেরও চারা রোপণ ও রোগবালাই দমনের কৌশল শেখাতে শুরু করেন এই সফল উদ্যোক্তা। তার অনুপ্রেরণায় টেপা মধুপুর ইউনিয়নের বাজে মজকুর গ্রামের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ এখন কোনো না কোনোভাবে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। 

শুধু জমির মালিকরাই নন, গ্রামের নারী শ্রমিকরাও প্রতিদিন পাতা কুড়িয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এখন তেজপাতার চাষ হচ্ছে এবং চাষির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।

এই মসলা চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৫০টি চারা লাগানো যায়, যেখানে বছরে উৎপাদন খরচ পড়ে মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। দুই বছরের মাথায় গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করা শুরু হয় এবং এক একর জমি থেকে বছরে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকার পাতা বিক্রি করা যায়, যার ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে আদা, হলুদ বা নানা ধরনের সবজিও অনায়াসে চাষ করা যায়।

সাথী ফসল থেকে কৃষকদের বছরে আরও অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনো তেজপাতা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং মান ভালো হওয়ায় দেশের শীর্ষস্থানীয় মসলা কোম্পানিগুলো সরাসরি এই উপজেলা থেকে তাদের কাঁচামাল সংগ্রহ করছে।