সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৩:২৪ পিএম
দিনাজপুরে এবার আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার করে কৃষকরা আউশ ধানের বাম্পার ফলন অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে কৃষি বিভাগের গবেষণায় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ব্রি-৯৮ (BRRI dhan98) জাতের আউশ ধান চাষে এই সফলতা এসেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিলুপ্তপ্রায় আউশ ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষি বিভাগ সফল হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন: চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
-
চাষের সুবিধা: কৃষকরা জানান, ব্রি-৯৮ জাতের আউশ ধান সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। সদর উপজেলার কর্ণাই গ্রামে সমবায় ভিত্তিতে চাষাবাদ করে একরপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০ মণ ফলন পাওয়া গেছে।
-
অর্থনৈতিক সুবিধা: কৃষক মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে কাঁচা ধান সাড়ে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধানের খড় বিক্রি করেও কৃষকরা খরচের একটা অংশ তুলে নিতে পারছেন।
-
বহু-ফসল চাষ: বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আউশ ধান কাটার পর ওই একই জমিতে আগাম জাতের আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এতে জমি থেকে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জেলার প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ব্রি-৯৮ জাতের বীজ, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছিল। মাঠকর্মীরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে এই সফলতা এনেছেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, এই অঞ্চলের উঁচু ও লালমাটির জমিতে আগে শুধু রবি শস্যের চাষ হলেও, সরকারি উদ্যোগে আউশ চাষ শুরু হওয়ায় এখন সেখানে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এই নতুন উদ্যোগে কৃষকেরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন