রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পানের বাম্পার ফলনেও মুখে হাসি নেই চাষিদের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৪, ২০২৫, ০১:০৯ পিএম

পানের বাম্পার ফলনেও মুখে হাসি নেই চাষিদের

ছবি - সংগৃহীত

বরগুনার আমতলী উপজেলার দেড় হাজারের বেশি প্রান্তিক পানচাষি এবার বড় ধরনের হতাশার মুখে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে পানের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় তারা উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এর ফলে অনেকেই এখন লোকসানের মুখে।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ১০৭ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে।

এর মধ্যে চাওড়া, গুলিশাখালী, কুকুয়া ও আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নে পানের আবাদ সবচেয়ে বেশি।চাষিদের অভিযোগের মূল জায়গাটা হলো— উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া আর বিক্রয় মূল্য কমে যাওয়া।শ্রমিকের মজুরি, বাঁশের শলা, খৈল এবং অন্যান্য উপকরণের দাম অনেক বেড়ে গেছে।অন্যদিকে, আগে যেখানে এক পাই (২৪ চল্লি) পান এক হাজার টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেই একই পান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকায়!

স্থানীয় পানচাষি দুলাল মাদবর ও রাজিব কাজী আক্ষেপ করে বলেন, এখন পানের বিক্রির টাকায় দিনমজুরের মজুরি দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।চাষিদের দাবি, বাজারে পাইকাররাই ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন, ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে লোকসানে পণ্য বিক্রি করছেন।তবে পাইকারদের বক্তব্য, বর্তমানে বাজারে পানের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে, যে কারণে ক্রয়মূল্যও কমে এসেছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল জানিয়েছেন, এবার ফলন ভালো হলেও দাম কম। তিনি মনে করেন, এখান থেকে অন্যত্র পান রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে চাষিরা ভালো দাম পাবেন এবং এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।স্থানীয় কৃষকরা বিশ্বাস করেন, বাজার থেকে সিন্ডিকেট ভাঙা এবং রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলেই কেবল তারা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। নয়তো এই বাম্পার ফলনই তাদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।