অক্টোবর ৪, ২০২৫, ০৮:১৬ পিএম
উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে সুপারি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এখানকার কৃষকরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও বেড়েছে। উৎপাদিত সুপারি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। সুপারির ভালো দাম এবং কম ঝুঁকি থাকায় কৃষকরা এই লাভজনক ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষি বিভাগ এবার প্রায় হাজার কোটি টাকার সুপারি উৎপাদনের আশা করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। একবার রোপণ করলে একটি সুপারি গাছ কোনো বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই টানা ২৫ থেকে ৩০ বছর ফলন দিতে পারে। প্রতি হেক্টরে প্রায় আড়াই থেকে তিন মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদন হয়। এবার জেলায় মোট ২০ হাজার মেট্রিক টন সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছর প্রতি কাওন (১৬ পোন) সুপারি ১৭০০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হলেও, এবার তা ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, গত বছরের চেয়ে প্রায় ৭০০-৮০০ টাকা বেশি দামে সুপারি বিক্রি হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য খুবই ইতিবাচক। দালাল বাজার এলাকার সুপারি চাষী নুরনবী বলেন, এবার ফলন ভালো হয়েছে এবং দামও ভালো পাওয়ায় তারা খুশি।
সুপারি বাগানে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিংবা রোগ-বালাই কম হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এখানকার সুপারি চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। সদর উপজেলার দালাল বাজার, রসুলগঞ্জ, রায়পুর বাজারসহ অন্তত শতাধিক স্থানে এখন সুপারির হাট বসছে। বিক্রেতা ও কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জহির আহমেদ বলেন, কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করায় উৎপাদন বাড়ছে এবং তারা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ প্রতিনিয়ত কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন