অক্টোবর ১৮, ২০২৫, ০৫:০৯ পিএম
বাগেরহাটের অর্থনীতিতে আবারও সুদিন ফেরাতে পারে ঐতিহ্যবাহী আখ চাষ। একসময় এ জেলার গুড়ের খ্যাতি দেশজোড়া থাকলেও, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে কৃষকরা আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে, সম্প্রতি খাল খনন এবং অতিবৃষ্টির ফলে জমির লবণাক্ততা কমে যাওয়ায় কৃষকরা আবারও আধুনিক পদ্ধতিতে আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছর জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ২৯৬ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ১২ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ আখ কাটা সম্পন্ন হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলার কচুয়া উপজেলার আখচাষি নাজমুল শেখ জানান, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে আখ চাষের সঙ্গে জড়িত। চলতি বছর ২ একর জমিতে ২ লাখ টাকা খরচ করে তিনি ইতোমধ্যে ৪ লাখ টাকার আখ বিক্রি করেছেন। আরেক চাষি রফিকুল ইসলাম ৬ একর জমিতে ১২ লাখ টাকা খরচ করে ১৮ লাখ টাকার আখ বিক্রি করেছেন, এতে তার লাভ হয়েছে ৬ লাখ টাকা।
চাষিরা জানান, কার্তিক মাসে চারা রোপণের পর ১০ মাস পরিচর্যা করতে হয়। এতে পরিশ্রম ও খরচ দুটোই বেশি। কিন্তু আখের পাতা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করা যায় এবং একবার চারা কিনলে পরের বছর ক্ষেতের আখ থেকেই চারা সংরক্ষণ করা যায়, যা লাভ বাড়াতে সাহায্য করে।
তবে, কৃষকরা অভিযোগ করেন, আখ চাষের জন্য সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, সার বা বীজ তারা পান না। ব্যাংক বা এনজিও থেকে আর্থিক সহায়তা পেলে তারা আখের আবাদ আরও বাড়াতে পারতেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারত।
স্থানীয় বাজারে বাগেরহাটের এই নরম জাতের (তুরফিন) আখের ব্যাপক কদর রয়েছে। এর রস মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় জন্ডিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবেও এর আলাদা পরিচিতি আছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন