রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নেত্রকোনায় রোপা আমন ক্ষেতে ইঁদুরের হানা, বিপাকে হাজারো কৃষক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ০৬:১৭ পিএম

নেত্রকোনায় রোপা আমন ক্ষেতে ইঁদুরের হানা, বিপাকে হাজারো কৃষক

নেত্রকোনা জেলায় রোপা আমন ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের মারাত্মক আক্রমণে কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সদর উপজেলার ছোট কাইলাটি গ্রামের কৃষক এনামুল হক তার ৪০ শতক জমির রোপা আমন আবাদের অর্ধেকেরও বেশি ফসল ইঁদুরের আক্রমণে হারিয়েছেন, যা ধান পাকার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ঘটেছে।

ইঁদুরের এই উপদ্রবের সাথে বাড়তি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে পচন রোগ। কৃষকরা জানিয়েছেন, ইঁদুরের আক্রমণ প্রতিহত করতে নানা পদ্ধতি ব্যবহার করেও তারা কোনো সুফল পাননি। একই সংকটজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে আটপাড়া উপজেলার দৌজ ইউনিয়ন এবং কেন্দুয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকাতেও।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, জেলার অন্তত এক হাজার কৃষক এই বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন, যেখানে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা একদিকে যেমন ফসল হারানোর শোকে দিশেহারা, তেমনি কৃষি বিভাগের কোনো কর্মকর্তার মাঠে এসে সহায়তা না করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কৃষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, ইঁদুরের আক্রমণ, পোকার উপদ্রব এবং পচন রোগের মতো অবস্থায় তারা কীভাবে বাঁচবেন বা উচ্চফলনশীল ধান পাবেন।

এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ইঁদুর দমন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। তাদের মতে, ফসলের যেটুকু ক্ষতি হয়েছে তা ব্যাপক পর্যায়ের নয়। যদিও কোনো সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই, তবে ইঁদুর নিধনে কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, ইঁদুরের লেজ সংগ্রহ করে উপজেলা কৃষি অফিসে জমা দিলে কৃষকদের আর্থিকভাবে বা অন্য কোনো উপায়ে পুরস্কৃত করা হবে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলার ১০টি উপজেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ১৩,৭১৫ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৬,৮৪০ হেক্টর এবং বাকিটা উফসি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।