নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে গাছ আলুর চাষ বেড়েছে, যা একসময় শুধু গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় গাছে চাষ হতো। কৃষকরা এখন সবজি জমিতে এই আলু চাষ করে ভালো ফলন ও বেশি দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন। গাছ আলু, যা মেটে আলু, পেস্তা আলু বা মাচা আলু নামেও পরিচিত, এর বৈজ্ঞানিক নাম ডায়োস্কোয়া আলাটা।
এটি মাটির নিচে কন্দ আকারে হয় এবং এর পুষ্টিগুণ অনেক। পানপাতার মতো দেখতে হওয়ায় গ্রামের চাষীরা একে পান আলুও বলেন, এবং গাছের ওপরের আলু তোলার পর মাটির নিচেও বড় আলু পাওয়া যায়।
গত পাঁচ বছর ধরে পাকুন্দিয়ার কৃষি জমিতে এই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এপ্রিল মাসে রোপণ করে আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এর ফলন পাওয়া যায়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে লাভজনক হওয়ায় এই আলু চাষ পাকুন্দিয়ার চাষীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার চাষীরাও এতে ঝুঁকছেন।
একজন কৃষক জানান, ৩০ শতাংশ জমিতে তার ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হলেও প্রায় এক লক্ষ টাকা বিক্রির আশা করছেন এবং গত চার-পাঁচ বছর ধরে এই লাভজনক চাষ করছেন। কৃষকদের দেখাদেখি অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এবং এখন জমিতে চাষেই ভালো ফলন ও দাম পাওয়া যাচ্ছে বলে তারা জানান। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই আলু মাচায় কুমড়া, চিচিঙ্গা ও ঝিঙ্গার মতো সবজির সাথে সাথী ফসল হিসেবেও ফলানো যায়। এটি বর্ষাকালে চাষ করা যায় এবং এতে রোগ ও পোকার আক্রমণ খুব কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও অত্যন্ত কম। চলতি মৌসুমে পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৪০২ হেক্টর জমিতে গাছ আলুর আবাদ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার মেট্রিক টন ধরা হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। কৃষি বিভাগ জেলার ১৩টি উপজেলায় এই আলুর চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে এবং আশা করা হচ্ছে, এই বাণিজ্যিক চাষ ভবিষ্যতে সবজির ঘাটতি মেটাতে সহায়তা করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন