নভেম্বর ১১, ২০২৫, ০৪:৫২ পিএম
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন হলো পাখি। সব পাখিই দেখতে সুন্দর হলেও কাকাতুয়া নামের পাখিটি তার রূপ ও গুণের জন্য অন্যতম। সৃষ্টিকর্তা এই পাখিটিকে নানা ধরনের উজ্জ্বল ও বিচিত্র রঙ দিয়ে সাজিয়েছেন, যা দেখলে মানুষের মন মুগ্ধ হয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত বিশ্বে ৩১৭ প্রজাতির কাকাতুয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। এদের বেশির ভাগই উষ্ণ অঞ্চলের বন-জঙ্গলে বসবাস করতে পছন্দ করে।
সে কারণে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণমণ্ডলীয় বনাঞ্চলে এদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। উদ্ভিদজাত খাবার খেয়ে জীবনধারণ করা এই পাখিরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত।
কাকাতুয়ারা সাধারণত শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকে এবং আক্রান্ত না হলে এরা অন্যকে আক্রমণ করে না। তবে এদের কণ্ঠস্বর বেশ তীক্ষ্ণ। এরা ঝাঁক বেঁধে উড়তে পছন্দ করে এবং উড়ে যাওয়ার সময় নিজেদের মধ্যে বিশেষ স্বরের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করে। দৈর্ঘ্যে ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার এবং ওজনে ৩০০ গ্রাম থেকে ১,২০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে এই পাখি। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার গতিবেগে ওড়ার রেকর্ডও রয়েছে এদের।
টিয়া ও ময়না পাখির মতো কাকাতুয়াও মানুষের কথা অনুকরণ করে উচ্চারণ করতে পারে এবং তা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারে। একারণেই শৌখিন পাখি পালকদের কাছে কাকাতুয়া অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত একটি নাম। লাল-হলুদ, নীল-সবুজ-হলুদ বা সবুজ-কালো-লাল রঙের পালক এদের সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।পুরুষ কাকাতুয়ার মাথায় সুন্দর ঝুঁটি থাকে, যা এদের আভিজাত্যের প্রতীক। এদের পা দুটি বেশ শক্ত এবং নখগুলো ধারালো হয়, যা দিয়ে এরা শিকারকে ছিঁড়ে খেতে পারে বা গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে পারে।
কাকাতুয়ারা গাছের খোঁড়ল, পর্বতের ফাটল বা কাঁটা ঝোপের ভেতর একাকী বাসা বানায়। প্রজনন ঋতুতে মা কাকাতুয়া সাধারণত দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে এবং বাবা-মা উভয়ে মিলেমিশে ডিমে তা দেয়। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অপরিকল্পিতভাবে বন-জঙ্গল কেটে ফেলার কারণে এই সুন্দর ও অভিজাত পাখিটির জীবন আজ বিপন্ন। মানবসৃষ্ট কারণে দ্রুত কমে আসছে কাকাতুয়ার সংখ্যা, যা পরিবেশের জন্য মোটেই সুখবর নয়। প্রকৃতির ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় আমাদের অপ্রয়োজনে গাছপালা ও বনভূমি ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন