নভেম্বর ১৩, ২০২৫, ১১:৫৪ এএম
আজ ১৩ নভেম্বর, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী। তিনি কেবল একজন ঔপন্যাসিক ছিলেন না, বরং একাধারে ছিলেন নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং গীতিকার। তার বহুমাত্রিক প্রতিভা বাংলা কথাসাহিত্যে আধুনিকতার এক নতুন ছোঁয়া এনেছিল,
যার ফলস্বরূপ তিনি কোটি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তার কলমে উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের হাসি-কান্না, স্বপ্ন ও বাস্তবতার এক রঙিন চিত্র।
১৯৪৮ সালের এই দিনে তিনি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার সরকারি চাকুরির কারণে সিলেট, রাঙামাটি ও পিরোজপুরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তার শৈশব কেটেছে।
এই বৈচিত্র্যময় পটভূমিই তার লেখায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাও করেন। ১৯৭৩ সালে কর্মজীবন শুরু করে তিনি দীর্ঘকাল রসায়ন বিভাগেই শিক্ষকতা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে', যা বাংলা কথাসাহিত্যে এক নতুন শৈলী ও সংলাপের জন্ম দেয়। তার লেখার মূল বৈশিষ্ট্য ছিল সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ এবং পরাবাস্তবতাকে সহজ ভাষায় ফুটিয়ে তোলা। তার সৃষ্ট চরিত্র হিমু ও মিসির আলী আজও বাঙালি পাঠকের মননে অমর হয়ে আছে। হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত যুক্তিবুদ্ধিহীন হিমু এবং যুক্তিবাদী মনস্তত্ত্ববিদ মিসির আলি—এই দুই চরিত্র আজও পাঠককে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে।
সাহিত্যের পাশাপাশি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি বিশেষ সাফল্য লাভ করেন। 'এইসব দিনরাত্রি', 'বহুব্রীহি' এবং 'কোথাও কেউ নেই'-এর মতো নাটক তাকে গণমানুষের বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। তার নির্মিত চলচ্চিত্র 'আগুনের পরশমণি' জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য জীবনে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেন। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মাত্র তেষট্টি বছর বয়সে এই মহান শিল্পী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, তাকে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে সমাহিত করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন