রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রখ্যাত ছড়া সম্রাট সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

প্রখ্যাত ছড়া সম্রাট সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

বাংলা শিশুসাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম পুরুষ ও প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া পরলোকগমন করেছেন। শুক্রবার ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরায় জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

তার মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ার কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই তিনি শেষ বিদায় নেন।

তার মৃত্যুতে দেশের শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুকুমার বড়ুয়া ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তার জীবন ছিল অত্যন্ত সংগ্রামী ও অনুপ্রেরণামূলক। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে সামান্য বেড়ার ঘর ভাড়া করে তার লেখালেখির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসর নেন। পেশাগত জীবনে সাধারণ কর্মী হলেও ছড়াসাহিত্যে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

প্রায় ছয় দশক ধরে ছড়া লেখার মাধ্যমে তিনি ‘ছড়াসম্রাট’, ‘ছড়াশিল্পী’ ও ‘ছড়ারাজ’ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি ও ভালোবাসা লাভ করেন।তার লেখনীতে ব্যঙ্গ, হাস্যরস, নৈতিক শিক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অত্যন্ত নিপুণভাবে উঠে আসত। তিনি সমাজ ও রাজনীতির অসঙ্গতিগুলো ছড়ার ছন্দে তুলে ধরতে পারতেন। তার উল্লেখযোগ্য কালজয়ী বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’

এলোপাতাড়ি’, ‘চিচিং ফাঁক’ এবং ‘নানা রঙের দিন’। ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তিনি একুশে পদক পান। এছাড়া বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও আলাওল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি। তার প্রয়াণ বাংলা ছড়াসাহিত্যে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল।