ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
ইসলামের ইতিহাসে প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর শাসনকাল নানা কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর আরবের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া ধর্মদ্রোহিতা দমনে তাঁর দৃঢ় অবস্থান ছিল অবিস্মরণীয়। সেই সময় ধর্মচ্যুত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে খলিফা আবু বকর একটি ঐতিহাসিক পত্র লিখেছিলেন, যা আজও ইসলামি শিল্প ও সাহিত্যে এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই পত্রে তিনি স্পষ্টভাবে ইসলামের মূল ভিত্তি এবং ধর্মত্যাগীদের প্রতি তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছিলেন।খলিফা তাঁর পত্রে উল্লেখ করেন যে, যারা ইসলামে অবিচল রয়েছেন তাঁদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হোক।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নবীজি যে আদর্শ নিয়ে এসেছিলেন তা গ্রহণ করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, নবী মুহাম্মদ (সা.) একজন মানুষ ছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা ধর্মকে পূর্ণাঙ্গ করার পর তাঁকে পৃথিবী থেকে নিয়ে গেছেন। তবে মুমিনরা যে রবের ইবাদত করেন, তিনি চিরঞ্জীব ও অমর।
পত্রের মাধ্যমে তিনি মুহাম্মদী আদর্শের অনুসারীদের সতর্ক করেন যে, যারা কেবল ব্যক্তির উপাসনা করত তাদের জানা উচিত তিনি ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু আল্লাহর উপাসনা যারা করেন তারা জানেন আল্লাহ তায়ালা তন্দ্রা বা নিদ্রাহীন এক শাশ্বত সত্তা।আবু বকর (রা.) তাঁর পত্রে ধর্মত্যাগীদের তাকওয়া অর্জনের এবং নবীজির নির্দেশিত পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে যারা ইসলাম ত্যাগ করেছে, তাদের সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছেছে।
খলিফা তাঁর সেনাপতিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন কোনো অভিযানের আগে এই পত্রটি পাঠ করে শোনানো হয়। যদি তারা পুনরায় ইসলামে ফিরে আসে এবং জাকাত প্রদানসহ ইসলামের বিধানগুলো মেনে নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ করা হবে না। কিন্তু যারা হঠকারিতা প্রদর্শন করবে, তাদের জন্য তরবারিই চূড়ান্ত ফয়সালা করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এই পত্রটি ছিল মূলত ইসলামের বিধান রক্ষার সর্বশেষ সতর্কবার্তা ও এক অটল ঘোষণা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন