রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফিলিস্তিন অভিযানে উসামার বাহিনী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

ফিলিস্তিন অভিযানে উসামার বাহিনী

উসামার ঐতিহাসিক বাহিনী

সাহাবিদের বিভিন্ন আপত্তি কিংবা আনসারদের যৌক্তিক দাবি কোনোটিই প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে তাঁর সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর জীবনের অন্তিম সময়ে উসামা ইবনে জায়েদের নেতৃত্বে ফিলিস্তিন ও বালকার অভিমুখে যে বিশাল সৈন্যবাহিনী প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, খলিফা আবু বকর তা বাস্তবায়নে ছিলেন সম্পূর্ণ অটল। 

তাঁর বিশ্বাস ছিল যে রাসুলুল্লাহর (সা.) নির্দেশ পালন করাই খিলাফতের প্রথম আমানত। তৎকালীন বিশ্বপরাশক্তি রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যখন উসামার বাহিনী প্রস্তুত হলো, খলিফা নিজে সেই শিবিরে উপস্থিত হয়ে সৈন্যদের ঈমানি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ইতিহাসের এক বিরল দৃশ্যে দেখা যায়, সেনাপতি উসামা ঘোড়ার পিঠে আরোহী ছিলেন আর খলিফা আবু বকর তাঁর পাশে পাশে হেঁটে সৈন্যদের সাহস জোগাচ্ছিলেন।

বিদায়লগ্নে খলিফা আবু বকর (রা.) মুসলিম সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক রণনীতি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি কঠোরভাবে নির্দেশ দেন যেন যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা, লুণ্ঠন কিংবা অঙ্গহানি না করা হয়। 

বিশেষ করে নারী, শিশু এবং বৃদ্ধদের হত্যা না করার পাশাপাশি ফলদার বৃক্ষ নিধন এবং খাদ্যের প্রয়োজন ছাড়া গবাদি পশু জবাই করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন তিনি। এমনকি ধর্মীয় উপাসনায় মগ্ন সাধু-সন্ন্যাসীদের কোনো প্রকার ক্ষতি না করার বিষয়টিও তাঁর ভাষণে স্পষ্ট ছিল। এই মানবিক ও নৈতিক যুদ্ধনীতি ইসলামের সর্বজনীন ও উদার রূপটি বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করেছিল। খলিফার এই ভাষণ কেবল যুদ্ধের আদেশ ছিল না, বরং তা ছিল একটি সভ্য ও ন্যায়নিষ্ঠ সামরিক কাঠামোর রূপরেখা।

সেনাপতি উসামা ইবনে জায়েদ মদিনার উপকণ্ঠ থেকে যাত্রা শুরু করে পর্যায়ক্রমে ওয়াদিউল কুরা এবং আবনা অভিমুখে অগ্রসর হন। রণকৌশল হিসেবে তিনি প্রথমে গুপ্তচর পাঠিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং অনুকূল রিপোর্ট পাওয়ার পরই চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করেন। রোমানদের বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০ বছরের এক তরুণ সেনাপতির এই অভিযান ছিল অত্যন্ত সাহসিকতাপূর্ণ। 

যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে এবং শত্রুরা দ্রুত পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল যে, এই অভিযানে কোনো মুসলিম সৈন্য শাহাদতবরণ করেননি এবং বিশাল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিয়ে মাত্র ৭০ দিনের মাথায় তারা নিরাপদে মদিনায় ফিরে আসেন।উসামার এই সফল অভিযান প্রমাণ করেছিল যে ইসলামের অগ্রযাত্রা কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং সঠিক নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্মও অসম্ভবকে জয় করতে পারে। 

খলিফা আবু বকর (রা.) মদিনার নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রাসুলের নির্দেশের প্রতি যে অবিচল আনুগত্য প্রদর্শন করেছিলেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তরুণ সেনাপতি উসামার প্রতি খলিফার যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং জ্যেষ্ঠ সাহাবিদের তাঁর অধীনে কাজ করার বাধ্যবাধকতা মূলত যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্বের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কাজের মাধ্যমে কথার বাস্তবায়ন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আদর্শের ওপর অটল থাকাই ছিল উসামার এই ঐতিহাসিক অভিযানের মূল শিক্ষা।