নভেম্বর ১, ২০২৫, ০১:১৬ পিএম
অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও গবেষণা হয়েছে। তবে তিনি যে একজন সফল লিটলম্যাগ সম্পাদক এবং দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, সেই দিকটি প্রায়শই আলোচনার বাইরে থেকে গেছে।
এ বিষয়ে গবেষক তপংকর চক্রবর্তীর লেখা 'বরিশালের সংবাদ ও সাময়িকপত্র' (বাংলা একাডেমি, ২০০১) বইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। জানা যায়, ১৯০১ সালে তরুণ আবুল কাশেম ফজলুল হক বরিশাল থেকে 'বালক' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এটিকেই পূর্ব বাংলার প্রথম সাপ্তাহিক শিশু পত্রিকা এবং অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যিক আতোয়ার রহমানও এই পত্রিকাকে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র (তৎকালীন) মুসলিম সম্পাদিত শিশু পত্রিকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর কিছুদিন পর, ১৯০২ সালে এ কে ফজলুল হক এবং শ্রী নিবারণচন্দ্র দাশগুপ্তের যৌথ সম্পাদনায় 'ভারত সুহৃদ' নামে আরও একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এটি তৎকালীন সময়ে দুই বাংলাতেই মানসম্মত সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে বেশ সমাদৃত হয়েছিল। যদিও পত্রিকাটি বিভিন্ন সময়ে তিনবার প্রকাশিত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
শেরে বাংলার সাংবাদিকতা ও সাহিত্য জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল 'দৈনিক নবযুগ'। ১৯২০ সালের ১২ জুলাই তিনি কলকাতা থেকে নিজ অর্থে এই সান্ধ্যকালীন দৈনিক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি নিজেই। পরবর্তী সময়ে 'নবযুগ' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তিনি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিযুক্ত করেন।
কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিঝরা লেখার কারণে 'নবযুগ' দ্রুতই জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যায় এবং ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে। ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী লেখার জন্য কলকাতা উচ্চ আদালতের ইংরেজ বিচারপতি টিউনন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে নিজের খাস কামরায় ডেকে নিয়ে হুঁশিয়ার করে দেন। কিন্তু ফজলুল হক ভয় না পেয়ে বিচারপতির কামরা থেকে ফিরেই নজরুলকে খবর পাঠিয়ে বলেন, ‘আরো গরম লিখে যাও, ইংরেজ সাহেবদের টনক নাড়িয়ে দাও।’
নজরুলের লেখা চলতে থাকলে একপর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার 'নবযুগ' পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত করে এবং কাগজটি বন্ধ করে দেয়। হক সাহেবের চেষ্টায় পত্রিকাটি পুনরায় চালু হলেও তিক্ত-বিরক্ত নজরুল 'নবযুগ'-এর কাজ ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে ১৯৪২ সালে ফজলুল হক যখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হন, তখন তার উদ্যোগে এবং নজরুলের সম্পাদনায় পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হয়। কিন্তু সে সময় কাজী নজরুল ইসলাম দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে খুলনার মাওলানা আহমদ আলী সম্পাদনার দায়িত্ব নেন। এর দুবছর পর পত্রিকাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন