ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৯:৪৮ পিএম
যশোরের বহুল আলোচিত যুবলীগ ক্যাডার ও যশোর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর শনিবার (২০ ডিসেম্বর) যশোরে আনা হয়েছে।
ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফ্যাসিবাদী আমলে মিলনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অসংখ্য অভিযোগ ছিল।
তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। ডিবির একটি বিশেষ টিম তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিলনের বিরুদ্ধে যশোর শহরে হত্যা, ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হলো:সোহাগ হত্যা মামলা: ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পুরাতন কসবা এলাকায় যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মিলন অন্যতম প্রধান আসামি।এমপির বাড়িতে বোমা হামলা: ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি যশোর-৩ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাড়িতে বোমা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী ছিলেন এই মিলন।
জুয়া ও ক্যাসিনো: শহরের পালবাড়ী মোড়ে রয়েল কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন বড় ধরণের জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।এটিই মিলনের প্রথম গ্রেপ্তার নয়। এর আগে ২০২০ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় দুবাই থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মদ্যপ অবস্থায় সহযোগীদেরসহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন তিনি। প্রতিটি সরকারের আমলেই তিনি যশোরে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।বর্তমানে তাঁকে যশোরে এনে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন