জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াই এখন প্রার্থী ছাড়িয়ে জোটের সমর্থনের ওপর কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এই আসনে ভোটারদের নজর এখন তরুণ রাজনৈতিক দল এনসিপির একমাত্র নারী প্রার্থী ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের দিকে।
এই দুই প্রার্থীর মধ্যে কে ইসলামপন্থী জোটের চূড়ান্ত সমর্থন পাবেন, তা নিয়ে চলছে তীব্র জল্পনা-কল্পনা।
ড. ফয়জুল হক, যিনি ঝালকাঠির প্রখ্যাত পীর হযরত কায়েদ সাহেব হুজুরের নাতি, সম্প্রতি বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন। ইসলামপন্থী অনেক নেতা তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে তাঁকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
মালয়েশিয়া বিএনপির সাবেক এই নেতা জানান, বিএনপির কিছু কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে পেরে আনন্দিত।অন্যদিকে, এনসিপির ডেপুটি চিফ অরগানাইজার ডা. মাহমুদা আলম মিতু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। বরিশাল বিভাগে এনসিপির টিকে থাকার লড়াইয়ে মিতুর প্রার্থিতা দলটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিতু জানান, নারী হিসেবে তিনি যোগ্য সম্মান ও সমর্থন আশা করছেন এবং অনলাইন-অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই তাঁর প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। তবে জোটগত সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর ভোটের মাঠে থাকা বা না থাকা নির্ভর করছে।
| প্রার্থীর নাম | দল/জোট | বর্তমান অবস্থা |
| ড. ফয়জুল হক | জামায়াতে ইসলামী | সক্রিয় প্রচারণা ও জোটের জোরালো সমর্থন |
| ডা. মাহমুদা আলম মিতু | এনসিপি | তরুণ প্রজন্মের পছন্দ ও জোটের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় |
| রফিকুল ইসলাম জামাল | বিএনপি | নির্বাচনী লড়াইয়ে সক্রিয় |
| ইব্রাহীম | ইসলামী আন্দোলন | দলীয় সমর্থনে মাঠে রয়েছেন |
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, মিতু এই আসন থেকে সরে দাঁড়ালে বরিশালে এনসিপির রাজনৈতিক প্রভাব সংকটে পড়তে পারে। অন্যদিকে, ফয়জুল হকের ধর্মীয় ও পারিবারিক ভাবমূর্তি তাঁকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। ঝালকাঠি-১ আসনে শেষ পর্যন্ত ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও সবার চোখ এখন জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। জামায়াতের ফয়জুল নাকি এনসিপির মিতু—কে পাচ্ছেন শেষ হাসি, তা দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন