জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১১:১৬ এএম
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত নিপীড়নের নেপথ্যে থাকা অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা ছিলেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আহমেদুল ইসলাম। গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারিক মানদণ্ড তোয়াক্কা না করে কেবল নিজের ‘ব্যক্তিগত মূল্যায়নের’ ভিত্তিতে তিনি অসংখ্য নিরীহ মানুষকে গুম করেছেন।
কমিশনের কাছে আহমেদুল ইসলাম যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি দাবি করেছেন, মতাদর্শগত অপরাধের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অবৈধ আটক রাখা কোনো ব্যতিক্রম নয়, বরং এটিই ছিল তাঁদের নিয়মিত চর্চা। তাঁর ভাষ্যমতে, যেহেতু প্রচলিত আইনে এভাবে কাউকে দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না, তাই তারা ‘অবৈধ ব্যবস্থাকেই’ কার্যকর পথ হিসেবে বেছে নিতেন।
গুম কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লিখিত মূল পয়েন্টগুলো:
ব্যক্তিগত রায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই নিজের বিচারবুদ্ধি খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে গুম করতেন আহমেদুল।
নিপীড়নের বৈধতা কমিশনকে তিনি বলেছেন, বিচারিক মানদণ্ডে প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন বলেই তারা আইন বহির্ভূতভাবে আটকের যৌক্তিকতা খুঁজে নিতেন।মামলার ব্যর্থতা অ্যান্টি-টেররিজম ট্রাইব্যুনালে অনেক মামলা কেন টেকেনি—এমন প্রশ্নে তাঁর উত্তর ছিল, প্রমাণ সংগ্রহে ‘ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা’ ছিল।
ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে তুলে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন আয়নাঘরের মতো জায়গায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। কমিশন মনে করছে, আহমেদুলের এই স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যক্তিগত স্বার্থে এবং আইন লঙ্ঘন করে ব্যবহারের এক জঘন্য উদাহরণ।বর্তমানে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন