রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটকে রুমিন ফারহানার হুমকি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১০:১১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটকে রুমিন ফারহানার হুমকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে জনসভা করা এবং দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের দায়ে তাকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে। 

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রুমিন ফারহানা সেখানে বিশাল স্টেজ নির্মাণ করে ৪০০-৫০০ মানুষের উপস্থিতিতে নির্বাচনী জনসভা করছিলেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সমাবেশ বন্ধের নির্দেশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রুমিন ফারহানা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন এবং মারমুখী আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি আঙুল উঁচিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দিয়ে বলেন, "আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে শুনব না।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, রুমিন ফারহানার উস্কানিতে তার কর্মীরা সেখানে ‍‍`মব‍‍` বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা প্রদান করেন। এই ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। রিটানিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সাথে এমন আচরণ নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী। উল্লেখ্য যে, রুমিন ফারহানা এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার ফলে দল তাকে ইতিপূর্বেই বহিষ্কার করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় রুমিন ফারহানার অবস্থান এখন অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং। নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এমন বিরোধ তাকে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান গণমাধ্যমকে নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আচরণবিধি লঙ্ঘন কঠোর হস্তে দমন করা হবে।