ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
দেশের নদী অববাহিকাগুলোতে নৌযান চলাচলের ওপর বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার কারণে নদী অঞ্চলে দৃষ্টিসীমা বা ভিজিবিলিটি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে যে কুয়াশার দাপটে অনেক জায়গায় দৃষ্টিসীমা ৬০০ মিটার বা তারও নিচে নেমে এসেছে যা নৌ চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে শীত বিদায়ের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে নদী অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘন কুয়াশার ফলে নৌপথের দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যে কোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চ, স্টিমার ও অন্যান্য নৌযানগুলোকে অত্যন্ত সাবধানতার সাথে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আপাতত কোনো সতর্ক সংকেত দেখানোর প্রয়োজন নেই বলে অধিদপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত শীতের শেষাংশে এসে নদী তীরবর্তী এলাকায় এমন ঘন কুয়াশা লক্ষ্য করা যায় যা সূর্য ওঠার পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানানো হয়েছে যে ঘন কুয়াশার কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নৌপথগুলোতে সকালের দিকে চলাচলে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে ফেরি পারাপারে চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ বা সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে। অনেক যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন যে ভোরে কুয়াশার তীব্রতা এতটাই ছিল যে নদীর কয়েক হাত দূরের কিছুও দেখা যাচ্ছিল না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে নদী অববাহিকা ছাড়া দেশের অন্য এলাকাগুলোতে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হালকা কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। নদী অঞ্চলের বাসিন্দাদের এবং বিশেষ করে যাত্রী ও চালকদের কুয়াশার সময় ধৈর্য ধারণ করে এবং সার্চলাইট ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নৌযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের এই সতর্কবার্তার পর থেকে দেশের প্রধান নদীবন্দরগুলোতে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন