ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন রায়েরবাজার এলাকায় অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রী বিন্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও রক্তমাখা পোশাক জব্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে সিয়ামকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে হাজারীবাগের হায়দার হোটেলের গলির ভেতরে নির্মমভাবে খুন হয় স্কুলছাত্রী বিন্তি। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে নিহত শারমিন আক্তার বিন্তি স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন।
তাঁর পরিবার শরীয়তপুরের সখীপুর থেকে এসে হাজারীবাগের হায়দার আলী হোটেলের পাশে ভাড়া বাসায় থাকত। ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে বিন্তি তাঁর ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাসা থেকে বের হন। নাবিল বাজার সেরে বোনের হাতে ব্যাগ দিয়ে মসজিদে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই এলাকায় হইচই শুরু হয় এবং বিন্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।হত্যাকাণ্ডের পর সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে যে বিন্তি একজন তরুণের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
অন্য একটি ফুটেজে এক তরুণকে রক্তমাখা ছুরি হাত দিয়ে মুছতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে ঘটনার সময় আশেপাশে অনেক মানুষ থাকলেও কেউ মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় বিন্তি পাশের বাসার এক নারীর গায়ে ঢলে পড়েন এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে হামলাকারী হিসেবে সিয়ামের নাম উল্লেখ করে যান। স্থানীয় লোকজনের কাছেও তিনি একই নাম বলেছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানিয়েছেন যে এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। অভিযুক্ত যুবক আগে থেকেই ছুরি সঙ্গে নিয়ে এসেছিল এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সেটি দিয়ে বিন্তিকে আঘাত করে। পুলিশের মতে সিসিটিভি ফুটেজ ও নিহতের শেষ জবানবন্দি এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনার সময় সাধারণ মানুষের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন