রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১০, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

লঞ্চের কেবিনে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণ

গ্রেপ্তার দুই আসামি

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে লঞ্চের কেবিনে আটকে রেখে দুই দফা ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোহাম্মদ সাকিব উদ্দিন এবং মোহাম্মদ নুরুজ্জামান মিঠু। 

বর্তমানে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ওই ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে গত ৮ মার্চ রবিবার দুপুরে ১৭ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ফারহান-০৪ নামক একটি লঞ্চে ওঠেন। তার বাবা তাকে লঞ্চের ৩২৮ নম্বর কেবিনে তুলে দিয়ে আসেন। একই লঞ্চে অভিযুক্ত সাকিব ও মিঠুও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। 

লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তরা ছাত্রীর কেবিনের দরজায় কড়া নাড়ে এবং নিজেদের তার বাবার পরিচিত বলে পরিচয় দেয়। তারা নিরাপত্তার অজুহাতে কিছু টাকা ওই কেবিনে রাখার অনুরোধ করলে ওই শিক্ষার্থী সরল বিশ্বাসে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেন।এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে কৌশলে কেবিনে প্রবেশ করার পর অভিযুক্তরা ছাত্রীর বিছানায় বসে পড়ে এবং তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। শিক্ষার্থী এতে রাজি না হওয়ায় তারা তার মুখ ও গলা চেপে ধরে। 

এ সময় মিঠু ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে কেবিনের বাইরে চলে যান এবং সাকিব ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। শিক্ষার্থী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে অভিযুক্তরা আবারও কেবিনে প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে।

পুলিশ জানায় যে ভুক্তভোগীর ভাইয়ের অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার অধিকতর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। স্কুল ছাত্রীর ওপর এমন পৈশাচিক হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।