শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

কুমিল্লায় মেডিকেল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

কুমিল্লায় মেডিকেল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ

কুমিল্লায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে এক নারী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অর্পিতা নওশিন। তিনি ওই কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ছিলেন। 

সহপাঠীদের অভিযোগ, এক শিক্ষকের ব্যক্তিগত আক্রোশ এবং লাগাতার মানসিক চাপের কারণে তিনি বিপুল পরিমাণ ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

নওশিনের গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। তিনি এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে ছোট ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় হোস্টেলের কক্ষ থেকে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সহপাঠীরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নওশিনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

সহপাঠীরা জানান, নওশিন দীর্ঘ দিন ধরে কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের রোষানলে ছিলেন। প্রথম বর্ষ থেকেই ওই শিক্ষক তাঁকে প্রকাশ্যে ফেল করানোর হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রথম পেশাগত পরীক্ষায় অন্য সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও নওশিন কেবল অ্যানাটমিতে আটকে যান। গত তিন বছরে তিনি একই বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই অকৃতকার্য হন। এই বিষয়টি তাঁকে চরম মানসিক বিষণ্ণতার দিকে ঠেলে দেয়।

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর বোনের আত্মহত্যা করার মতো মানসিকতা ছিল না। কলেজের পরিবেশ ও ক্রমাগত মানসিক নিপীড়নই তাঁকে এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে। বৃহস্পতিবারও নওশিন তাঁর ভাইয়ের কাছে পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য টাকা চেয়েছিলেন। আরমানের দাবি, তাঁর বোনকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি বিষয়ে আটকে রাখা হয়েছিল এবং কেন তিনি বারবার ফেল করছেন তার কোনো সঠিক ব্যাখ্যাও কলেজ থেকে দেওয়া হয়নি।

গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। নওশিনের সহপাঠীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও তিনি প্রথম বর্ষের পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সেই শিক্ষককে ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল কল রিসিভ করছেন না।

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। ছাত্রীর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অধ্যক্ষ আরও জানান, তদন্তে যদি কারও অবহেলা বা প্ররোচনা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল মোস্তফা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।