এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১০:৫৯ পিএম
ভোট প্রদানের পর আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানোর প্রথাটি সবার কাছে পরিচিত হলেও এবার জ্বালানি তেল নিতে গিয়েও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ও কালোবাজারি রুখতে উপজেলা প্রশাসন এই ব্যতিক্রমী ও অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শনিবার ৪ এপ্রিল উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে তারাগঞ্জের সোনালী ফিলিং স্টেশন ও বালাবাড়ি এরিস্ট্রোক্র্যাট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি পাম্প এলাকা ছাড়িয়ে সড়কে গিয়ে ঠেকেছে।
পাম্পগুলোতে সকাল থেকেই প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তেলের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে প্রতিটি চালকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করার পর আঙুলে কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে তা বাইরে চড়া দামে বিক্রি করছে। স্থানীয় এই তেল সিন্ডিকেট ভাঙতেই প্রশাসনের নির্দেশনায় আঙুলে কালি দেওয়ার পদ্ধতিটি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে এক ব্যক্তি দিনে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করার সুযোগ পাচ্ছেন না।
পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, অনেক সময় দেখা যেত একই মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা একই ব্যক্তি বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের মজুদ সরিয়ে নিচ্ছেন। এতে সাধারণ ও প্রকৃত চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছিলেন না। এখন আঙুলে কালির চিহ্ন থাকায় সহজেই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাম্পের এক কর্মকর্তা জানান, এই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর সাধারণ চালকদের তেল পাওয়ার নিশ্চয়তা কিছুটা বেড়েছে।
এদিকে প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ চালকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক চালক বলেন, আঙুলে কালি দেওয়ার কারণে অন্তত এটা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে কেউ বারবার তেল নিতে পারছে না। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মূল দাবি হলো জ্বালানি তেলের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা।
এই বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন জানান, জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতেই মূলত এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি চালকের এনআইডি ও যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে তারপর তেল দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম হতে না পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তারাগঞ্জের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি বর্তমানে পুরো জেলায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন