বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে হামের সংক্রমণ হাসপাতালে ভর্তি ১৭ জন

রবিউল এহ্সান রিপন

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে হামের সংক্রমণ হাসপাতালে ভর্তি ১৭ জন

ঠাকুরগাঁওয়ে দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে হাম রোগের সংক্রমণ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও সাতজন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। 

আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে।ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪৮ জন সন্দেহভাজন রোগীর তথ্য সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। 

এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে তিনজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে ১৭ জন রোগী হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, এ পর্যন্ত সাতজন রোগী পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং জেলায় এখন পর্যন্ত এই রোগে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করার লক্ষ্যে নমুনা সংগ্রহের গতি বাড়ানো হয়েছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন ১০ জনসহ এ পর্যন্ত ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার কেন্দ্রীয় ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু এখনো টিকার আওতায় আসেনি, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রতিষেধক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অতি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও নিয়মিত টিকাদান এবং সচেতনতার মাধ্যমে এটি মোকাবিলা করা সম্ভব। অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে শিশুদের মধ্যে তীব্র জ্বর বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরণের গুজব বা আতঙ্কে কান না দিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সিভিল সার্জন অফিস থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।