রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্রমিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সড়কে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল থেকে দূরপাল্লাসহ আন্তঃজেলা ও উপজেলার সব রুটে এই কর্মবিরতি শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকরা। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। 

অনেককে টার্মিনালে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।পরিবহন শ্রমিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। 

শ্রমিকদের দাবি, দুটি সংগঠনই জেলা থেকে চলাচল করা বাস থেকে আলাদাভাবে চাঁদা আদায় করছে। এই দ্বৈত চাঁদাবাজি নিয়ে সংগঠন দুটির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। একটি পক্ষ অবৈধভাবে সড়কে চাঁদা তুলছে বলে অভিযোগ ওঠার পর এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।

জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম আনার জানান, আগে দুটি সংগঠন একীভূত হয়ে শ্রমিকদের কল্যাণে নির্ধারিত হারে চাঁদা আদায় করত। কিন্তু হঠাৎ করেই মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের নামে শহরের হরিপুর এলাকায় আলাদাভাবে চাঁদা আদায় শুরু করে একটি পক্ষ। এর প্রতিবাদেই শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন যে টার্মিনালের বাইরে সড়কে চাঁদা আদায়ের কোনো এখতিয়ার কারো নেই এবং সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে।

অন্যদিকে জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ জুলমত সাংবাদিকদের কাছে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, তারা নিয়ম মেনেই শুধু বাস থেকে চাঁদা আদায় করছেন। উল্টো ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন এখন বেআইনিভাবে বাস থেকেও চাঁদা নিচ্ছে। দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে আজ সন্ধ্যার মধ্যে যদি এই বিরোধের নিষ্পত্তি না হয়, তবে বাসের পাশাপাশি ট্রাকসহ সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, দুই সংগঠনের বিরোধ মেটাতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। তবে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রশাসন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। আকস্মিক বাস বন্ধের ফলে যাত্রীরা এখন ছোট ছোট যানবাহনে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।