এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার রাতে দেবীগঞ্জ থানায় উপজেলা প্রশাসনের পেশকার সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় ২৫ জনের নাম সরাসরি উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তেলের পাম্পে নিয়মকানুন তদারকি করতে গিয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হন ইউএনও সবুজ কুমার বসাক।ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার দুপুরে উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন মেসার্স জান্নাতুল মাওয়া ফিলিং স্টেশনে।
জানা গেছে, ওই পাম্পে পেট্রোল সরবরাহের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোর থেকেই মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তেল সরবরাহ কার্যক্রম সশরীরে পরিদর্শনে যান ইউএনও। সেখানে পৌঁছে তিনি চালকদের ফুয়েল কার্ড, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করেন।
যাদের বৈধ কাগজপত্র ছিল না, তাদের স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন তিনি।পাক্কা তথ্যের অভাবে এ সময় নথিপত্রহীন দুই চালককে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হলে লাইনে থাকা ৩০ থেকে ৪০ জন চালক অতর্কিতে হট্টগোল শুরু করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ইউএনও ও তার সাথে থাকা আনসার সদস্যের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে আসে এবং ধাওয়া করে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে ইউএনওকে নিকটস্থ একটি বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হামলার সময় আনসার সদস্য তৈয়বুর রহমানকে কিলঘুষি মেরে তার সাথে থাকা সরকারি অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে আহত আনসার সদস্য দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।
সম্ভাব্য সব স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায়। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওই ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন