রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এক জঘন্যতম অপরাধের অভিযোগে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম হবিবর রহমান (৫৮)। তার বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

রোববার সকাল থেকে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা ওই শিক্ষককে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখলে বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বেংহারী সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি নির্জন কক্ষে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন প্রধান শিক্ষক হবিবর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হওয়া মাত্রই এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্ষুব্ধ মানুষ বিদ্যালয়ে জড়ো হতে শুরু করে। 

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে বাঁচাতে একটি টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়েন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয় ভবন ঘেরাও করে তাকে প্রায় ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা প্রশাসনের কাছে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। 

তিনি বলেন, যে শিক্ষকের কাছে সন্তান নিরাপদ থাকার কথা, তার কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত দেখতে পান। অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে রক্ষায় টেবিলের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। 

পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে তাকে উদ্ধার ও আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ওই বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষককে দ্রুত বদলি করা হবে বলে জানান তিনি।