মে ১১, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে সম্প্রতি দায়িত্ব পাওয়া মো. মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সোমবার (১১ মে) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (৯ মে) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে ১০ মে-এর মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। এর আগে গত ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদলের অংশ হিসেবে তাকে পঞ্চগড়ে পদায়ন করা হয়েছিল। গত ৭ মে তিনি জেলায় যোগদান করেন এবং পরদিন ৮ মে জরুরি কাজে ঢাকায় যান। তবে এরপর তিনি আর পঞ্চগড়ে ফিরে আসেননি।
মিজানুর রহমানের পঞ্চগড়ে পদায়নের পর গত ৯ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন আলোচিত সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী পর্যায়ের সুপারিশ নিয়েও একসময় পদায়ন না পাওয়া এই কর্মকর্তার প্রতি বর্তমান সরকার সদয় হয়েছে।
জুলকারনাইন সায়ের তার পোস্টে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী কনস্টেবলের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক এবং অধিনস্তদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের মতো গুরুতর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তোলেন।জুলকারনাইন সায়ের ১০ মে অপর এক পোস্টে জানান, ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে `অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণ` অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। সেই সময় জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার শাস্তি দেওয়া হয়। পোস্টে তিনি মিজানুর রহমানকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করে তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সদ্য নিয়োগ পাওয়া এই পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে এসব তথ্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সচেতন নাগরিকরা তার দ্রুত বদলির দাবি জানিয়ে পোস্ট করতে থাকেন। তীব্র জনরোষ ও সমালোচনার মুখেই গত ৯ মে তাকে দায়িত্বভার অর্পণ করে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার বিকেলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে নেটিজেনদের মধ্যে আবারও নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। তবে প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে সদ্য নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন