রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এআই ক্যামেরার কবলে সড়ক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

এআই ক্যামেরার কবলে সড়ক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা

এআই ক্যামেরার নজরদারি

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ক্রসিংগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানো শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপন করেছে। গত এক সপ্তাহেই এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ৩০০টির বেশি স্বয়ংক্রিয় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপি জানায়, বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বিজয় সরণি ও কাওরান বাজারসহ আটটি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইটের সঙ্গে এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্তত ৩০টি স্থানে এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। 

একই সঙ্গে যানবাহনের সঠিক স্থানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি (RFID) ট্যাগ সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এই প্রযুক্তির সক্ষমতা সম্পর্কে ডিএমপির তথ্য বলছে, স্থাপিত এআই ক্যামেরাগুলো লাল বাতি অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিং দখল, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ অন্তত ছয় ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে পারে। 

বিআরটিএ-র ডাটাবেইস ব্যবহার করে এই ক্যামেরা তাৎক্ষণিকভাবে যানবাহনের মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্রও শনাক্ত করছে।আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হচ্ছে এবং গাড়ির মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস ও নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ডিএমপির মুখপাত্র এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, এই কার্যক্রমের আওতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির শাহবাগ জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তারিকুল আলম জানান, এই প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হলে মাঠপর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশের ওপর কাজের চাপ কমবে। মানুষের অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, এই কার্যক্রমের শুরুতে ইঞ্জিনিয়ারসহ বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। ভবিষ্যতে মামলার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে শাস্তির চেয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও নিয়মতান্ত্রিক করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার বিষয়ে সাড়া না দিলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিধানও রাখা হয়েছে।