রবিবার, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬,

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

মে ১৩, ২০২৬, ০১:২০ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রভাব বাংলাবান্ধায় আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পাথর আমদানিতে ধীরগতি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির ফুলবাড়ি স্থলবন্দরে ব্যবসায়ী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে স্থবিরতা নেমে এসেছে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে। ওপাড়ে সিঅ্যান্ডএফ ও আমদানি-রপ্তানিকারক সংগঠনের পুনর্গঠন নিয়ে দেখা দেওয়া অসন্তুষ্টির কারণে ভুটান ও ভারত থেকে পাথর আমদানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বন্দরের কার্যক্রম চালু থাকলেও সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভুটান থেকে মাত্র তিনটি পাথরের ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। বুধবারও (১৩ মে) একই চিত্র দেখা গেছে বন্দরজুড়ে। চাহিদামতো পাথর না আসায় বাজারে পাথর সংকটের পাশাপাশি বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।

জটিলতার মূল কারণ: সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর ফুলবাড়ি বন্দরে ব্যবসা ও ট্রান্সপোর্টের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো নতুন করে গঠন করা হচ্ছে। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। 

এর ফলে ভুটান ও ভারতে আগে থেকে লোড করা পাথরবাহী ট্রাকগুলো গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপাড়ে আটকে আছে।বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট নুর ইসলাম জানান, “ভারতের ফুলবাড়ি পোর্টের ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সমস্যার কারণে আমদানি-রপ্তানিতে প্রভাব পড়েছে। আমরা আশা করছি, এই সমস্যাটি দ্রুত সমাধান হবে।ক্ষতির মুখে আমদানিকারকরা: পাথর আমদানি কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক রেজাউল করিম শাহীন বলেন, “ভুটান ও ভারতের পাথরের দেশে প্রচুর চাহিদা আছে। আমরা বিপুল পরিমাণ এলসি (LC) করে রেখেছি। 

কিন্তু ওপাড়ে ট্রাক আটকে থাকায় পাথর আসছে না, যার ফলে আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানান, বাংলাদেশের প্রান্তে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ভারতের ফুলবাড়িতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে গতি কমেছে। যেহেতু পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, তাই দ্রুত নতুন কমিটি গঠন হলে এবং সমস্যা নিরসন হলে কার্যক্রম আবার গতি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল থেকে নির্বাচনের কারণে এবং পরবর্তীতে ফলাফল ঘোষণার কারণে বন্দরে কার্যক্রম কয়েক দফা ব্যাহত হওয়ার পর গত রবিবার (১০ মে) থেকে পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। তবে বর্তমানে এই সাংগঠনিক অসন্তুষ্টি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।