সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রবাসীকে হত্যার পর লাশ আট টুকরো: মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ২১, ২০২৬, ১২:১৪ এএম

প্রবাসীকে হত্যার পর লাশ আট টুকরো: মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার তাসলিমা

রাজধানীর মুগদা থানায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ও মূল পরিকল্পনাকারী তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনাকে গ্রেপ্তার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। বুধবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রবাসীকে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

সিটিটিসি প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সাফল্য অর্জন করে।তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে অবস্থানকালে তাসলিমার সঙ্গে মোকাররমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তিনি প্রবাসী মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ধার নেন। 

গত ১৩ মে মোকাররম দেশে ফিরে মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনার বাসায় দেখা করতে আসেন। সেখানে টাকা ফেরত দেওয়া, বিয়ে এবং ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের হুমকি দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাসলিমা ও হেলেনা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

১৪ মে সকালে ঘুমের ওষুধ সেবন করিয়ে অচেতন করার পর মোকাররমকে হত্যা করা হয়।পরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা, হেলেনা ও হেলেনার মেয়ে হালিমা মিলে হাতুড়ি ও বটি দিয়ে কুপিয়ে মোকাররমের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড শেষে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরো করা হয়। খুনিরা লাশের খণ্ডিতাংশগুলো ওই দিন রাতেই বাসার নিচে ময়লার স্তূপে এবং মাথার অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে দিয়েছিল। ১৭ মে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে মোকাররমের পরিচয় শনাক্ত করে।

ঘটনার পর সহযোগী আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও তাসলিমা আত্মগোপনে ছিলেন।সিটিটিসি বিভাগ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়। অবশেষে বুধবার ভোরে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এর আগে সহযোগী আসামি হেলেনা ও তার মেয়েকে র্যাব গ্রেপ্তার করেছিল। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মুগদা থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার তাসলিমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। হত্যার পর আলামত নষ্ট করতে যে নিষ্ঠুর পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তৎপর রয়েছে।