বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইন চেষ্টা খোলা আকাশের নিচে আটকা ১০ জন

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

জুন ৬, ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইন চেষ্টা খোলা আকাশের নিচে আটকা ১০ জন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ব্যক্তি দীর্ঘ ৩৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভারতের অভ্যন্তরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ তা প্রতিহত করে। 

দীর্ঘ সময় ধরে শূন্যরেখার ওপারে আটকা পড়ে থাকায় ওই দলটিতে থাকা পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশুর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর থেকে ব্যক্তিরা সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে আটকা পড়ে আছেন, যেখানে বৃষ্টির কারণে পানি জমে রয়েছে। শুক্রবার রাতে মুষলধারে বৃষ্টি হলেও তারা কোনো আশ্রয়ের ব্যবস্থা পাননি, যার ফলে নারী ও শিশুরা তীব্র ঠান্ডায় অসহায় হয়ে পড়েছেন। 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি এবং বর্তমানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার ভেতরেই অবস্থান করছেন।সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওই ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। 

তারা দাবি করছে, ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রহণ করা সম্ভব নয়।আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমাধানের জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আহ্বান জানিয়েছে।বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৫৬তম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বিএসএফের কমান্ডারের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো উচিত, এভাবে রাতের অন্ধকারে কাউকে ফেলে দেওয়া অমানবিক। মানবিক সংকট নিরসনে দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।