জুন ১১, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম
দিনের ক্লান্তি ও ব্যস্ততা শেষে যখন গ্রামের সাধারণ মানুষ গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে পড়ে, তখন দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে শুরু হয় অন্যরকম এক নাগরিক দায়িত্ব। হাতে শক্তিশালী টর্চ লাইট, দেশীয় লাঠি আর সতর্ক সংকেতের বাঁশি নিয়ে দলবেঁধে রাতভর পাহারায় পঞ্চগড়ের সীমান্তের মানুষ নিজেদের মাতৃভূমির সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তজুড়ে ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা এবং পুশইনের সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এই স্বতঃস্ফূর্ত সতর্কতা ও দেশপ্রেমের চিত্র বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।বিপদের সামান্য আভাস বা সন্দেহজনক গতিবিধি টের পেলেই জোরে বাঁশি বাজিয়ে অন্য গ্রামবাসীদের দ্রুত সতর্ক করছেন টহলরত যুবকেরা।জেলার হাড়িভাসা, তেঁতুলিয়া ও ভজনপুরের মতো বিস্তীর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় যুবকদের পাশাপাশি সব বয়সী সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাতভর সীমান্ত পাহারার কাজ করছেন।
তারা নিজ উদ্যোগে কয়েকটি ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে সীমান্তসংলগ্ন চা বাগান, গাছতলা কিংবা গ্রামীণ বাজারের মোড়ে রাত জেগে কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন। সীমান্তে কোনো সন্দেহজনক বা অপরিচিত ব্যক্তির চলাফেরা দেখলেই গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবিকে খবর দিয়ে সতর্ক করছেন। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে বিজিবির নিয়মিত টহল ও সীমান্ত নজরদারি ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর হয়ে উঠেছে।
সীমান্তের এই নাগরিক জাগরণকে আরও বেগবান করতে গত কয়েক দিন ধরে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হচ্ছে। সম্প্রতি সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তে প্রায় ১০ জনকে পুশইনের একটি বড় চেষ্টা স্থানীয় জাগ্রত জনতা ও বিজিবির যৌথ প্রতিরোধে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, পঞ্চগড় জেলার মোট সীমান্ত এলাকার দৈর্ঘ্য ২৭৭ দশমিক ৯১৫ কিলোমিটার, যার বিশাল অংশজুড়ে ১৮ বিজিবি, ৫০ বিজিবি ও ৫৬ বিজিবি দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে।
ভজনপুরের স্থানীয় বাসিন্দা খাইরুল ইসলাম ও রাহাত আলী জানান যে পকেটে সবসময় বিজিবির দেওয়া একটি বাঁশি থাকে এবং দেশের স্বার্থে কষ্ট করে তারা এই টহল দিচ্ছেন। পঞ্চগড় ১৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের এই অভূতপূর্ব সহযোগিতা সীমান্ত সুরক্ষাকে শতভাগ নিশ্ছিদ্র করতে বড় অবদান রাখছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন