জুন ২৭, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের পাশাপাশি এবার এক মর্মস্পর্শী চিরকুট পাওয়া গেছে। নাম-পরিচয়হীন এই বিশেষ চিঠিতে ওসমান হাদি নামের এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিচার দাবি করা হয়েছে। শনিবার সকালে দীর্ঘ ছয় মাস পর মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলার পর এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গণনাকারীদের সামনে আসে।এই বেনামী চিঠিটি এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সকাল ৭টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মসজিদের দানবাক্সগুলো সর্বসাধারণের সামনে উন্মুক্ত করা হয়। এবার দানবাক্স থেকে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে, যা পরবর্তীতে সুশৃঙ্খলভাবে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় এনে গণনার কাজ শুরু করা হয়। এই বিশেষ কার্যক্রমের সময় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী উপস্থিত ছিলেন। সেই সাথে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
দানবাক্সে পাওয়া আলোচিত ওই চিঠিতে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট ভাষায় ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনের আশা পূরণের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত এই মসজিদের দানবাক্সে এমন একটি আইনি ও মানবিক দাবি সংবলিত চিঠি পাওয়ার বিষয়টি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর অর্থাৎ ৩ মাস ২৭ দিন পর যখন দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছিল, তখন সেখান থেকে রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ লাখ ৫৩৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল। সেবারও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল যা পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিল। এবার দীর্ঘ ছয় মাস পর বাক্সগুলো খোলায় জমার পরিমাণ আগের সব রেকর্ডকে অনায়াসে ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. ইশতিয়াক ইমন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন