জুন ৩০, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
ঠাকুরগাঁওয়ে চৌদ্দ বছরের এক বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের জঘন্য অপরাধে মো. আ. মমিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশের একটি বিশেষ আদালত। একই সঙ্গে বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেছেন। আজ মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর জনাকীর্ণ আদালতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই চাঞ্চল্যকর মামলার অপর আসামি মো. এরশাদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।দণ্ডপ্রাপ্ত আ. মমিন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার ভাবনাবাড়ী গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগীর ছেলে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলার দীর্ঘ এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক আটটার দিকে ভুক্তভোগী বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা রেখে তাঁর মা প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাড়িতে জরুরি কাজে যান।
রাত নয়টার দিকে নিজের বাড়ি ফিরে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী যুবক আ. মমিন তাঁর মেয়ের মুখ শক্ত করে চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করছে। এ সময় মমিনকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হলে সে ভুক্তভোগীর মাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় এবং পরে মায়ের আর্তচিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন।নৃশংস এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা মমিনের ভাই মো. এরশাদের কাছে সামাজিক বিচার চাইতে গেলে এরশাদ কোনো বিচার না করে উল্টো ভীতি প্রদর্শন করেন এবং মমিনকে এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে পরোক্ষ সহায়তা করেন।
পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে আসামিপক্ষ দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করায়, ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও উভয় পক্ষের বহু সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত আজ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করলেন। রায়ে বিচারক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে দণ্ডিত আসামির ওপর আরোপিত দুই লাখ টাকার অর্থদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং জেলা প্রশাসককে আসামির সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে জানান যে এক অসহায় বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরীর ওপর হওয়া এই পাশবিক অপরাধ রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের মাধ্যমে একটি দরিদ্র ও অসহায় পরিবার দীর্ঘ এগারো বছর পর অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পেল বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ তাঁর মক্কেলকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে এই আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে দ্রুত আপিল করার কথা ব্যক্ত করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন