জুলাই ৯, ২০২৬, ১০:০৫ এএম
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি অধিকাংশ এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।জরুরি যোগাযোগ, অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল নেটওয়ার্ক উধাও হয়ে যায়। ফলে প্রয়োজনের সময় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। অনেক এলাকায় বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবাও বন্ধ থাকায় নগদ অর্থের সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও দমকা হাওয়ার কারণে ১১ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। গাছের ডালপালা ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় বারবার লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, ফলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
লামা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা জানান, প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে বিভিন্ন স্থানে গাছের ডাল বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে লাইনে একাধিক ত্রুটি সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে মোবাইল নেটওয়ার্কেও। বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ মোবাইল টাওয়ারের ব্যাকআপ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক এলাকায় কোনো অপারেটরের নেটওয়ার্কই পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল অপারেটরগুলো সব টাওয়ারে পর্যাপ্ত ব্যাকআপ সুবিধা থাকার দাবি করলেও বাস্তবে বিদ্যুৎ চলে গেলে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঈন উদ্দিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি প্রশাসন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা টাওয়ারে ব্যাকআপ ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন। লামা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পাহাড়ি জনপদের মানুষের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাকে দুর্যোগ-সহনশীল করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন