বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

১৩ বছর বয়সী মায়ের কোলে ৭ মাসের শিশু,ঘটনার নেপথ্যে কী?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ১, ২০২৬, ১১:৩২ এএম

১৩ বছর বয়সী মায়ের কোলে ৭ মাসের শিশু,ঘটনার নেপথ্যে কী?

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ছোট্ট শিশুর কোলে আরেকটি শিশু রয়েছে। কোলের শিশুটিকে কোলে ধরে থাকা কিশোরীর বর্তমান বয়স তেরো বছর পার হয়েছে, আর তার কোলে থাকা ছেলে শিশুটির বয়স সাত মাস। অর্থাৎ, মাত্র তেরো বছর বয়সে এক কিশোরী সাত মাসের এক সন্তানের মা হয়েছেন, যা শিশু সুরক্ষা ও আইনি বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

এই ঘটনায় শিশু অধিকার রক্ষা এবং প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটির জন্মদাতা অভিযুক্ত মো. শাকিল মিয়ার বয়স বাইশ বছর। গত বছর যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন ওই কিশোরী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। টিকটকে ভিডিও তৈরির সুবাদে ২০২৫ সালে তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আইনিভাবে এই প্রক্রিয়ার কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। কিশোরীর পরিবার জানায়, গত বছরের বিভিন্ন সময়ে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির জন্ম হয়।

তবে ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে শিশুটিকে রেখেই কিশোরীকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে গত মে মাসে নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরীর পরিবার। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের নির্দেশক্রমে চকবাজার থানা-পুলিশ গত মাসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে শিশুটিকে তার কিশোরী মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের জন্য নারীর ন্যূনতম বয়স আঠারো এবং পুরুষের একবিংশ বছর নির্ধারিত। এর কম বয়সে সংঘটিত যেকোনো ইউনিয়ন আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। এ ছাড়া নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ে বা তালাক সম্পাদনের কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই। ফলে এই ঘটনায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নতুন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সাম্প্রতিক আইনি সংশোধনী অনুযায়ী, ষোলো বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর ক্ষেত্রে সম্মতি বা অসম্মতি নির্বিশেষে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। আগামী সপ্তাহের শুনানিতে শিশুটির অভিভাবকত্ব ও আইনি ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।