সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠিগুলোতে যা লেখা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠিগুলোতে যা লেখা

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সরকারি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কয়েকটি চিঠিতে বৈবাহিক সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন, প্রতারণার অভিযোগ এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণার কথা উঠে এসেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ এসব চিঠি ও ডায়েরির পাতা উদ্ধার করে।

চিঠির পাতায় ক্ষোভ ও বেদনার প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি লিখে গেছেন, কেবল মায়ায় পড়ার কারণে বারবার নত হতে হয়েছে, তবে তিনি নিজেকে সস্তা মনে করেন না।জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাড ও সাধারণ কাগজে লেখা এসব চিঠিতে বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণাই মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। মরিয়ম খাতুন একটি চিঠিতে লিখেছেন, অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে তিনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছেন। 

তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে তিনি দেখেছেন যাকে বিশ্বাস করেছিলেন তিনিই ছিলেন প্রতিপক্ষ দলের সেনাপতি। নিজেকে দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথাও সেখানে স্পষ্ট করেন তিনি। আরেকটি পাতায় সম্পর্কের জটিল অবস্থান ও দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে থাকা নিয়ে চরম কষ্টের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 

সেখানে তিনি লিখেছেন, কাগজে-কলমে অধিকার অন্য নারীর থাকলেও তিনি সরল বিশ্বাসে তাকে নিজের ভেবেছিলেন।  কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে পুরোপুরি হারিয়ে ফেলা অনেক বেশি সম্মানের উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়, তা হয় সম্পূর্ণ অথবা অপূর্ণ।

বিশ্বাস নিয়ে প্রতারণার অনুভূতি জানাতে গিয়ে একটি পাতায় তিনি লেখেন, বন্ধুত্বের কথা বলে এক ধরনের খেলা শুরু করা হয়েছিল। সরল মনে রাজি হলেও তিনি বুঝতে পারেননি যে নিজেই সেই খেলার দাবার একটি চাল ছিলেন। 

ক্ষোভ ও প্রতিশোধের অনুভূতির ইঙ্গিত দিয়ে জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেক অংশে মরিয়ম উল্লেখ করেন, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একজন জিতে গেলেও তার এই হাসিমুখই শেষ পর্যন্ত তার জন্য ধ্বংস ডেকে আনবে।

চিঠিগুলোর পাশাপাশি ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ লেখা একটি পাতাও সেখানে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে করণীয় হিসেবে কলেমা পাঠ, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসি এবং নির্দিষ্ট কিছু জিকির ও আমলের একটি তালিকা সাজানো ছিল।