সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
চিরকুটের ফরেনসিক বিশ্লেষণ

মরিয়মের চিরকুটের অমিল নিয়ে যা বলছেন গবেষক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

মরিয়মের চিরকুটের অমিল নিয়ে যা বলছেন গবেষক

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের উদ্ধার করা চিরকুটগুলোর হাতের লেখায় অমিল ও ভিন্ন প্যাটার্ন দেখা যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট ও গবেষক মো. মিরাজ হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব চিঠির হস্তাক্ষর নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ ও প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে তিনি এ সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সাইকোলজি অ্যান্ড সাইন্সেসের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

চিঠিপত্রগুলোর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলোর একটিতে চলতি বছরের ১২ জুলাই তারিখের উল্লেখ রয়েছে। লাল ও কালো দুই ধরনের কালির ব্যবহারে লেখা এসব চিঠির ভিন্নতা বিশ্লেষণ করে মিরাজ হোসেন উল্লেখ করেন, হস্তাক্ষরে দুই ধরনের প্যাটার্ন স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা ব্যক্তিগত মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের লেখার ভঙ্গিতেও এ ধরনের তীব্র রূপান্তর ঘটতে পারে। 

জুলাই মাসের লেখাগুলো তুলনামূলকভাবে সোজা ছিল, যাতে কিছু কাটাকাটি ও ওপর দিয়ে লেখার চিহ্ন রয়েছে। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য লেখার সময় ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ বিরক্তি ও অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তী চিরকুটগুলোর বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে গবেষক জানান, একটি লেখায় দীর্ঘ রেখা টেনে দাগ দেওয়া হয়েছে, যা তীব্র মানসিক আবেগ ও সব পরিস্থিতি নিখুঁত রাখার প্রবণতা প্রকাশ করে।  পাতার শেষভাগে লেখাগুলো অপেক্ষাকৃত বড় হয়ে ওঠার লক্ষণ ইঙ্গিত করে যে তিনি সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল ছিলেন ও উচ্চ প্রত্যাশা পোষণ করতেন।

বিশেষ করে মাত্রা ব্যবহারে অস্বাভাবিক টান দেখা গেছে। লাল ও কালো কালির মধ্যকার স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য অন্য কারও লেখার মাধ্যমে তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে গবেষক জানান যে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরিয়মের আরও আগের স্বাভাবিক হস্তাক্ষরের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি অন্য কারও হস্তাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা বেশ কম বলেই তিনি মনে করছেন। কালো কালির লেখার মধ্যে অক্ষরগুলো ওপরের দিক থেকে সংযুক্ত করার ধরন শনাক্ত হয়েছে। 

ফরেনসিক পরিভাষায় এটিকে প্রতিরক্ষামূলক বা নিরাপত্তা খোঁজার আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। লেখার বাঁ পাশের মার্জিন অসমান হওয়া এবং বিভিন্ন স্থান থেকে লাইন শুরু হওয়ার ধরন প্রমাণ করে যে ওই সময়ে লেখক অত্যন্ত অগোছালো ও শৃঙ্খলহীন মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এর বিপরীতে আগের লাল কালির লেখাগুলোতে তুলনামূলক কিছুটা শৃঙ্খলা ছিল।

চূড়ান্ত মন্তব্যে মিরাজ হোসেন বলেন, মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছালে মানুষের হস্তাক্ষরে এমন ব্যাপক পরিবর্তন আসা অস্বাভাবিক নয়। তবে চূড়ান্ত ও অকাট্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থার লেখার সঙ্গে এগুলো মিলিয়ে যাচাই করা আবশ্যক।