সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
রাজধানীর পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে বা ৩০০ ফিট সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য করে উল্টো পথে আসা একটি মোটরসাইকেল থামাতে গিয়ে আরোহীদের অসদাচরণের শিকার হয়েছেন কর্তব্যরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশ সদস্যকে হেনস্তা করার ঘটনায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই দুই আরোহীর প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন মোসা. স্বপ্না এবং মাহফুজুর রহমান।
ট্রাফিক পুলিশের বাড্ডা জোন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের একটি সংযোগস্থল দিয়ে উল্টো দিক থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন ওই দুই আরোহী। সড়কের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সম্ভাব্য সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সার্জেন্ট তাদের থামার সংকেত দেন। গাড়ি থামানোর পর উল্টো পথে আসার কারণ জানতে চেয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তা প্রচলিত ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
আইনি প্রক্রিয়া শুরুর সাথে সাথেই মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ক্ষুব্ধ হয়ে সার্জেন্টের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে থাকা নারী আরোহী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলছেন এবং একপর্যায়ে তিনি কর্তব্যরত সার্জেন্টের দিকে মারমুখী হয়ে তেড়ে যাওয়ার মতো আচরণ করেন। এতে প্রকাশ্য সড়কে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য চরম বিব্রতকর ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সদস্যদের কাজে সরাসরি বাধা এবং অশোভন আচরণের অভিযোগে ওই নারীসহ দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক উভয়কে দোষী সাব্যস্ত করে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
সড়কে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিতে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। আইন অমান্যকারী কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় কোনো ছাড় না দিয়ে ভবিষ্যতেও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন