অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভা ও সংলগ্ন এলাকায় একটি ক্ষ্যাপা শিয়ালের আকস্মিক হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ভীতির সৃষ্টি হলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে ঘিরে ফেলে শিয়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সাঁথিয়া পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের শালঘর মহল্লা এবং পার্শ্ববর্তী গৌরীগ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
টানা দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই তাণ্ডব চলে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, শালঘর মহল্লার বাসিন্দা রফিকের বাড়ির পুকুরপাড়ে বেঁধে রাখা একটি ছাগলের ওপর আক্রমণের মধ্য দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরপর শিয়ালটি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং বাড়ির সামনের সড়কে থাকা মানুষজনের ওপর বেপরোয়াভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে নারী ও শিশুদের ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে কামড়ে ও আঁচড়ে রক্তাক্ত করতে থাকে প্রাণীটি। আহতদের মধ্যে শালঘর মহল্লার পাঁচ বছর বয়সী শিশু সুরাইয়া, ৩৫ বছর বয়সী আলো খাতুন এবং দশ বছর বয়সী সোনিয়া রয়েছেন।
এছাড়া পার্শ্ববর্তী গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামের তিন বছর বয়সী সিনহা, চার বছর বয়সী জুবাইধা, ৩০ বছর বয়সী লাখি, ৭০ বছর বয়সী মংলা খাতুন, ছয় বছর বয়সী বায়জিত, ৪২ বছর বয়সী হেনা, ২২ বছর বয়সী শামসুর এবং ৫০ বছর বয়সী শাহিদা বেগম শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন। হামলার খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়।
আত্মরক্ষার্থে লাঠিসোঁটা হাতে দলবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে আসেন শত শত গ্রামবাসী। একপর্যায়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয়রা আশপাশের একটি ঝোপঝাড় চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারী শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহফুজ জানান, কামড় ও আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়া ১১ জনকেই প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ রোধে সবাইকে তাৎক্ষণিকভাবে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আকস্মিক এই বন্যপ্রাণীর হামলায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে এখনো থমথমে পরিবেশ ও জলাতঙ্কের উদ্বেগ বিরাজ করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন