রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাগড়াছড়িতে এখনো ১৪৪ ধারা বহাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ১২:২১ পিএম

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাগড়াছড়িতে এখনো ১৪৪ ধারা বহাল

ছবি - সংগৃহীত

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে গুইমারার রামেসু বাজারে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের পর গত রোববার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় বর্তমানে ওই এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

এদিকে জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অবরোধকারীরা সড়ক অবরোধ করলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এক স্কুলছাত্রীকে গুইমারার রামেসু এলাকায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরে ওই কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং তার বাবা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযুক্ত শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ড দিয়েছেন।ধর্ষণের প্রতিবাদে স্থানীয় জুম্ম ছাত্র-জনতা আন্দোলন শুরু করে, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় পরিণত হয়। এই সহিংসতা পরবর্তীতে রামেসু বাজারে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের জন্ম দেয়।

রোববার এই সহিংসতায় রামেসু বাজারের অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনতলা একটি ভবনসহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা কার্যালয়, পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়, মহিলাবিষয়ক কার্যালয়, তথ্য আপা কার্যালয়, খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং ক্লিনিকসহ প্রায় ১৫টি সরকারি-বেসরকারি অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকারও বেশি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মুখোশ পরা ব্যক্তিরা এসে লুটপাট ও পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে।সহিংসতার সময় গুলিতে গুইমারা উপজেলার তিন যুবক নিহত হন। তারা হলেন আথুই মারমা (২১), আথ্রাউ মারমা (২২) ও তৈইচিং মারমা (২০)। তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ির সদর ও গুইমারা উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে অবরোধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের পথে যান চলাচল শুরু হলেও, রাঙামাটির সঙ্গে যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। জেলা সদর থেকে অন্য ৯ উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় জনজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তা জুম্ম ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা দ্রুত বিচার, নির্যাতন ও গ্রেপ্তার বন্ধ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে আট দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রশাসন বেশ কিছু দাবি মানার আশ্বাস দিয়েছে, তবে অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে ১৪৪ ধারা শিথিল হবে না। এদিকে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে ভারত ও 'ফ্যাসিস্টদের' ইন্ধনের অভিযোগ করেন।

তবে রাঙামাটিতে সড়ক অবরোধের প্রভাব তেমন পড়েনি, এখানকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি ও মারিশ্যার রাস্তাগুলো এখনো বন্ধ। রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার, সদর জোন কমান্ডার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং পাহাড়ি-বাঙালি রাজনৈতিক দলের নেতারা যৌথভাবে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়ে গুজব ও ফেসবুকে ছড়ানো মিথ্যা তথ্যে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। রাঙামাটি শহরে আদালত পাড়া, জেলা প্রশাসন কার্যালয়, কলেজ গেইট, এসপি অফিস, বনরূপা, রিজার্ভ বাজারসহ সবকয়টি পূজামণ্ডপে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।