সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নিখোঁজ ইমাম উদ্ধার,হাত-পা বাঁধা ছিল শিকলে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ০৮:৩১ পিএম

নিখোঁজ ইমাম  উদ্ধার,হাত-পা বাঁধা  ছিল শিকলে

ছবি - সংগৃহীত

টঙ্গীর মরকুন এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিটিসিএল টিএন্ডটি কলোনি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মহিবুল্লাহ (৬০) মিয়াজীকে। বৃহস্পতিবার ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিলিবোর্ড বাজার এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে হাত-পা বাঁধা এবং অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনাটি টঙ্গী এবং পঞ্চগড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পারিবারিক সূত্র এবং মসজিদের মুসল্লিরা দাবি করছেন, সম্প্রতি জুমার খুৎবায় সামাজিক অবক্ষয় ও উগ্রপন্থা নিয়ে বয়ান করার জের ধরে একটি বিতর্কিত গোষ্ঠী তাকে লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছিল, যার পরিণতিতেই এই অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

আজাদি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পঞ্চগড়ের যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হোসেন তাকে ফোন করে এই উদ্ধারের খবর জানিয়েছেন। মো. হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন হিলিবোর্ড বাজার এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় একজন ব্যক্তিকে অচেতনভাবে পড়ে থাকতে দেখেন। তার হাত ও পা উভয়ই লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা ছিল।

তাৎক্ষণিকভাবে তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং শিকল কেটে মুমূর্ষু অবস্থায় মাওলানা মহিবুল্লাহকে উদ্ধার করে। তাকে দ্রুত পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা এবং ঠিক কী ঘটেছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর, বুধবার, টঙ্গীর মরকুনের বাসা থেকে নিখোঁজ হন মাওলানা মহিবুল্লাহ। তার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে বলে দাবি করছেন তার পরিবার ও স্থানীয় মুসল্লিরা। টঙ্গী টিএন্ডটি বিটিসিএল কলোনী জামে মসজিদের মুসল্লিরা জানান, মাওলানা মহিবুল্লাহ একজন স্পষ্টভাষী আলেম হিসেবে পরিচিত। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে তার জুমার নামাজের খুৎবায় চলমান সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক মূল্যবোধের গুরুত্ব এবং সমাজে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন উগ্রপন্থি সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে ইসলামের আদর্শগত অবস্থান থেকে কঠোর সমালোচনা ও বয়ান করছিলেন।

এই বয়ানগুলোর পর থেকেই একটি অজ্ঞাত ও বিতর্কিত গোষ্ঠী তাকে निशाना বানায়। গত কয়েকদিন ধরে তাকে পর পর বারোটি চিঠি পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর তাকে আবারও হুমকি দেওয়া হয়। এর পরদিনই, ২২ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েন। পরবর্তীতে মাওলানা মোঃ মহিবুল্লাহর ছেলে মোঃ মোহামুদুল্লাহ বাদী হয়ে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দেশের বিভিন্ন থানায় তার নিখোঁজের বার্তা পাঠানো হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ অহিদুজ্জামান বৃহস্পতিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন যে, নিখোঁজ মাওলানা মহিবুল্লাহকে পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং মাওলানাকে পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পঞ্চগড় থেকে টঙ্গীতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার পর এবং তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া হবে।

কারা, কেন তাকে অপহরণ করে এভাবে নির্যাতন করেছে, সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে ওসি আশ্বাস দেন। এই ঘটনাটি ধর্মীয় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার একটি উদ্বেগজনক নজির হিসেবে উঠে এসেছে, যা নিয়ে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।