নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৭:৩৫ পিএম
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ও স্থগীতাদেশের জটিলতা শেষে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ ফিরে পেলেন অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতির সভাপতির পদের স্থগীতাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এদিকে, অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি সভাপতি পদে পুনর্বহাল হওয়ায় সাধারণ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী বলেন, "অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি উপজেলা বিএনপির বটবৃক্ষ। তিনি স্বপদে বহাল হওয়ায় এ অঞ্চলের নেতাকর্মীরা যেন ছায়া ফিরে পেয়েছেন।"
একইভাবে ফুলবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী আবুল বাশার বলেন, "ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতির হাতে তৈরি। আজ তাকে স্বপদে বহাল করায় নেতাকর্মীরা নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।" উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নজমুল হক নাজিম এবং সহসভাপতি আব্দুল মজিদ মন্ডলসহ অনেকে একই মন্তব্য করেন।উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকিউর রহমান চঞ্চলসহ একাধিক সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, এতোদিন ফুলবাড়ী উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের মাথায় ছাদ ছিল না। এখন বটবৃক্ষ নেতাকে ফিরে পেয়ে কর্মীদের মাঝে প্রাণ ফিরে এসেছে।
রাজনৈতিক পটভূমি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি ১৯৭৯ সালে ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন। এরপর তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, যুবদলের সভাপতি, উপজেলা বিএনপির দুইবার সাধারণ সম্পাদক ও তিনবার সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে স্বপদে বহাল করা হলেও, তিন দিনের মাথায় সভাপতি পদ স্থগিত করে তাকে সাধারণ সদস্যপদ দেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২২ সালের নভেম্বরে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মনোনীত হন এবং এখন চূড়ান্তভাবে তাকে সভাপতি পদে পুনঃবহাল করা হলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন