মো: মামুনুর রশিদ
জানুয়ারি ৩, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
“একে আমার ভাঙ্গা ঘর, তার উপরে লরে চরে... কখন জানি এই ঘর ভাইঙ্গা পরে রে।” প্রচলিত এই গানের করুণ সুর যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৮ নং ধর্মপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেড়াগাঁও গ্রামের পয়ন চন্দ্র সরকারের জীবনে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে একটি জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের ঘরে একাকী লড়াই করছেন ৬৩ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ।
পয়ন সরকারের স্ত্রী কিংবা সন্তান—কোনও কিছুই নেই। এক সময় সংসার থাকলেও এখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্ব ও একা। নিজের নামে এক চিলতে জমিও নেই।
একটি ছোট্ট ভাঙা টিনের চালা আর বেড়াই তাঁর শেষ আশ্রয়। বৃষ্টি হলে ঘর উপচে পানি পড়ে, আর হাড়কাঁপানো শীতে কুয়াশার কামড়ে নির্ঘুম রাত কাটে তাঁর।শারীরিক অসুস্থতা আর বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি এখন ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না, হারিয়ে ফেলেছেন শ্রবণশক্তিও।
তিনবেলা পেট ভরে খাওয়া এখন তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। কোনোদিন প্রতিবেশীর দয়ায় খাবার জোটে, আবার কোনোদিন কাটছে অনাহারে। চিকিৎসার সামর্থ্য নেই বলে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছেন এই প্রবীণ।স্থানীয় ইউপি সদস্য দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, পয়ন চন্দ্রের জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়সের ভুল থাকার কারণে তিনি সরকারি বয়স্ক ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন না।
আমরা এটি সংশোধনের চেষ্টা করছি এবং দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে তাঁকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় থাকলে হয়তো পয়ন সরকারকে আর বাঁচানো যাবে না। তাই সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে তাঁরা মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।