রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দ্রুতই চালু হচ্ছে দীর্ঘ ২২ বছর বন্ধ থাকা দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল

মো: মামুনুর রশিদ

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

দ্রুতই চালু হচ্ছে দীর্ঘ ২২ বছর বন্ধ থাকা দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল

দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ছবি-দিনাজপুর টিভি

প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ থাকা দিনাজপুর টেক্সটাইল মিল খুব শীঘ্রই পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে। আজ রোববার (১২ এপ্রিল ২০২৬) সকালে মিলটি পরিদর্শন শেষে এই সুসংবাদ দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। মিলটি সচল হওয়ার মাধ্যমে দিনাজপুরের হাজার হাজার বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করার। 

আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের বন্ধ থাকা সব বড় বড় কলকারখানা ও টেক্সটাইল মিলগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুর টেক্সটাইল মিলটি চালুর জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়াটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং খুব দ্রুতই মিলটি উৎপাদনে ফিরবে।

সকাল থেকেই প্রতিমন্ত্রী দিনাজপুরের এই ঐতিহ্যবাহী মিলের কারখানা, বিশাল গুদামঘর এবং প্রশাসনিক ভবন ঘুরে দেখেন। প্রায় ২২ বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় অবকাঠামোগত যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সংস্কার করে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না। এই মিলটি চালু হলে কেবল কর্মসংস্থানই সৃষ্টি হবে না, বরং উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। যে শ্রমিকরা এক সময় কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন, তারা পুনরায় তাদের কর্মস্থলে ফিরে পাবেন সম্মানজনক জীবিকা।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের সচিব, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিলটি চালুর ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, দিনাজপুরের এই টেক্সটাইল মিলটি ৩৭ একর বিশাল জায়গার ওপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয়েছিল। ১৯৮০ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। 

তবে লোকসান ও অব্যবস্থাপনার অজুহাতে তৎকালীন সরকার ২০০২ সালের দিকে মিলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। দীর্ঘ ২২ বছর পর পুনরায় মিলটি চালুর ঘোষণায় দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ ও সাবেক শ্রমিকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এই উদ্যোগটি সফল হলে দিনাজপুর অঞ্চলের শিল্পায়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে।