এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি পুনরায় সচল করা হয়। এর ফলে গত দুই দিন ধরে ওই অঞ্চলে বিদ্যুতের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক শুক্রবার রাত ৮টার দিকে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, সব ধরনের যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়েছে।
রাত ৮টা থেকে এই ইউনিট থেকে উৎপাদিত ৫৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্রটিতে দৈনিক অন্তত ৭০০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করেই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। মূলত কয়লার সঙ্গে পাথর চলে আসার কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে কর্তৃপক্ষ উৎপাদন স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। তবে প্রকৌশলীদের নিবিড় তদারকিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রুটি সারিয়ে শুক্রবার রাতে আবারও ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হলো। কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরে আসায় পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে।
উল্লেখ্য যে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে সরবরাহকৃত কয়লার ওপর ভিত্তি করেই এই ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালিত হয়। তবে কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকেই যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হওয়ার আগে এই ইউনিটটি থেকে প্রায় ৬০-৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত। প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রথম ইউনিট চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন এবং লোডশেডিংয়ের চাপ অনেকটা প্রশমিত হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন